একের পর এক ধাক্কা খেয়ে ট্রাম্প নিশানা করলেন পুরোনো প্রতিপক্ষ সংবাদমাধ্যমকে

‎ ‎একের পর এক ধাক্কা খেয়ে ট্রাম্প নিশানা করলেন পুরোনো প্রতিপক্ষ সংবাদমাধ্যমকে ‎মার্কিন নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ট্রাম্প রাজনৈতিক সংকটে পড়লে এ ধরনের কাজ করেন। তিনি আলোচনার বিষয় বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। নিজের ক্ষমতা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের দমন করতে সরকারকে কাজে লাগান। ‎ 

‎নিউইয়র্ক টাইমস ‎প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৩০ ‎



 ‎যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার নিজের ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাঁর অনেক চেষ্টাই সফল হয়নি। এরপর তিনি পরিচিত এক প্রতিপক্ষকে নিশানা করেছেন। সেটি হলো সংবাদমাধ্যম। ‎ 

‎জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস ভবনের সামনে নিজের নাম বসাতে প্রচণ্ড চাপ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু আদালত তাঁর চেষ্টা আটকে দেন।

 ‎ ‎সুদের হার কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) ওপরও তিনি প্রচণ্ড চাপ দিয়েছিলেন। এ জন্য তিনি অস্বাভাবিক সব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর নিজের পছন্দে নিয়োগ পাওয়া ফেড চেয়ারম্যানও তাঁর কথা রাখেননি। বরং অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনিও ঋণের খরচ বাড়ানোর পক্ষে ভোট দেন। সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মত ছিল। ‎ 

‎ট্রাম্প কথার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তারপরও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কাছে খুবই অজনপ্রিয়। ‎ ‎

 ‎দেশটির মানুষ অর্থনীতি ও পেট্রলের চড়া দাম নিয়েও উদ্বিগ্ন রয়েছেন। এসব বিষয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা তাঁদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ‎ ‎

ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট তাঁর চেষ্টা আটকে দেন। ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া বিচারপতিরাও এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ছিলেন। ‎


 ‎এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন হবে নভেম্বরে। ট্রাম্প বছরের পর বছর রিপাবলিকান পার্টির ওপর প্রভাব ধরে রেখেছেন। দেশের রাজনৈতিক আলোচনাও নিয়ন্ত্রণ করেছেন। কিন্তু এখন তাঁর রাজনৈতিক ক্ষমতা কমছে বলে মনে হচ্ছে।

 ‎একের পর এক ধাক্কায় ট্রাম্পের হতাশা বাড়ছে। তিনি মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে নিতে চাইছেন। এ জন্য তিনি তাঁর পছন্দের পুরোনো প্রতিপক্ষ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছেন। ‎ ‎

  • ট্রাম্প মনে করেন, ভয় দেখিয়ে তিনি যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করাতে পারবেন। তিনি দেখেছেন, এই কৌশল তাঁর জন্য কাজ করেছে। পুরো রিপাবলিকান পার্টি তাঁর কাছে মাথা নত করেছে। ‎

  • সারাহ ম্যাথুস, হোয়াইট হাউসের সাবেক উপপ্রেস সচিব ‎


শনিবার হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের অপ্রত্যাশিত ঘোষণা কার্যকর করেছে। সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে ঢোকা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ‎সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা সেই বিরোধকে আরও তীব্র করেছে। ‎ 
‎ ‎সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ট্রাম্প রাজনৈতিক সংকটে পড়লে এ ধরনের কাজ করেন। তিনি আলোচনার বিষয় বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। নিজের ক্ষমতা নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন তোলেন, তাঁদের দমন করতে সরকারকে কাজে লাগান। ‎ ‎

  • যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমকে অপমান ও তুচ্ছ করে আসছেন। তাঁর সমালোচনা করে এমন সংবাদ বন্ধ করতে আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টাও করেছেন।এখন সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে ঢোকা নিষিদ্ধ করেছেন। ‎


ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের উপপ্রেস সচিব ছিলেন সারাহ ম্যাথুস। তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প মনে করেন, ভয় দেখিয়ে তিনি যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে নিজের ইচ্ছামতো কাজ করাতে পারবেন। তিনি দেখেছেন, এই কৌশল তাঁর জন্য কাজ করেছে। পুরো রিপাবলিকান পার্টি তাঁর কাছে মাথা নত করেছে।

’ ‎ ‎সারাহ ম্যাথুস আরও বলেন, ‘আদালত, ফেড এবং নিজের দলের মানুষের কাছ থেকেও তিনি বাধার মুখে পড়ছেন। তাই তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে আক্রমণ করছেন।’ ‎ ‎ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমকে অপমান ও তুচ্ছ করে আসছেন। তাঁর সমালোচনা করে এমন সংবাদ বন্ধ করতে আদালতকে ব্যবহারের চেষ্টাও করেছেন। ‎ 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

From workup job workers

অপ্রতিম হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি পুলিশের, যা জানা গেল ব্রিফিংয়ে | Cumilla | Police | Jamuna TV